চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কে পড়ে রইলো কোরবানির চামড়া
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভির
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আযহা,ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার শিক্ষা দেয় যে উৎসব, সেই ঈদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ কোরবানির পশুর চামড়া। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কোরবানির চামড়ার অর্থ গরিব, মিসকিন ও এতিমদের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা। অথচ বছরের পর বছর চামড়া সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সেই হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় মানুষরা।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে শত শত কোরবানির পশুর চামড়া সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে গেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। শহরের টি.এ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকা চামড়ার স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, বাড়ছে জনভোগান্তি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি ঈদুল আযহায় জেলায় প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। জেলার প্রায় ১৫ হাজার খামারি দীর্ঘদিন ধরে পশু লালন,পালন করলেও কোরবানির পর চামড়ার বাজারে দেখা দেয় ভয়াবহ অস্থিরতা। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে শহরে আসেন। কিন্তু রাতভর অপেক্ষা করেও মিলেনি আশানুরূপ ক্রেতা।
অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় সংগ্রহ করা গরুর চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে ২০০ টাকাও পাচ্ছেন না। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে বাধ্য হয়েই তারা চামড়া সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যান।
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দেশের চামড়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবে এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া না থাকলে এত বড় সিন্ডিকেট বছরের পর বছর টিকে থাকা সম্ভব নয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোরবানির চামড়া মূলত মাদরাসা, এতিমখানা ও গরিব মানুষের হক। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে সেই অর্থ আজ প্রভাবশালীদের পকেটে চলে যাচ্ছে। ফলে ইসলামের মানবিক শিক্ষা ও কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোরবানির চামড়া নষ্ট হওয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক ও নৈতিক ব্যর্থতা। কারণ এই চামড়ার অর্থ দিয়েই বহু এতিমখানা ও দরিদ্র মানুষের সহায়তা হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে সড়কের পাশে চামড়া ফেলে রাখায় পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত চামড়া অপসারণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।