ডিবির অভিযানে শম্ভুগঞ্জে বাদশা হেরোইনসহ গ্রেফতার নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির খবর।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এটাই কি শেষ,নাকি শুরু মাত্র?
মাদক ব্যবসা কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়,এটি একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ,যেখানে একদিকে থাকে পাইকার,অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতা,আর মাঝখানে থাকে নীরব সুবিধাভোগীরা।
আবুল বাদশা হয়তো এই চক্রের একটি দৃশ্যমান মুখ, মাদক মার্কেট থেকে খোচরদের মাধ্যমে যতদুর জানা গেছে যে এই বাদশা ফুলপুর তারাকান্দা এলাকাতেও মাদক সাপ্লাই করতো,সুতরাং দীর্ঘদিন ধরে যে বিস্তৃত অঞ্চলে হেরোইন সরবরাহ করে আসছিলেন,তা প্রমাণ করে যে তার মাদকের শিকড় অনেক গভীরে বিস্তৃত।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো,এমন কর্মকাণ্ড বছরের পর বছর চললেও কেন তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি?প্রশাসনের নজরদারি কোথায় ছিল?শুধু একজনকে গ্রেফতার করে যদি পুরো ব্যবস্থাকে “সাফল্য” হিসেবে দেখানো হয়,তাহলে বাস্তব পরিবর্তন আসবে না,বরং অপরাধীরা আরও সংগঠিত হবে।
এখন সময় শুধু গ্রেফতারের নয়,পুরো মাদক নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার।শম্ভুগঞ্জ,বোররচর,পরানগঞ্জ,সিরতা চর,চর ইশ্বরদিয়া থেকে চর গোবিন্দপুর হয়ে তারাকান্দা থেকে ফুলপুর বাদশাদের যে মাদকের ছায়া বিস্তৃত হয়েছে,তা নির্মূল করতে হলে প্রয়োজন কঠোর অভিযান, জবাবদিহিতা এবং ধারাবাহিক নজরদারি।
মানুষের স্বস্তি তখনই পূর্ণতা পাবে,যখন তারা দেখবে শুধু একজন নয়,পুরো চক্রই আইনের আওতায় এসেছে। নইলে আজকের এই গ্রেফতারও কেবল আরেকটি সংবাদ হয়েই থেকে যাবে, বাস্তব পরিবর্তন নয়।
মো: ফজলুল হক নয়ন
সাংবাদিক
ফুলপুর, ময়মনসিংহ।
৫/৬/২০২৬