প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া.
স্ত্রী নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আলোচিত প্রতারক খোকনকে ঘিরে এখনও আতঙ্কে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনেক মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ভয়ভীতি, ব্ল্যাকমেইল ও মানহানির অভিযোগে অভিযুক্ত এই ব্যক্তিকে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে।স্থানীয়দের আশঙ্কা, আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও থেমে নেই তার সিন্ডিকেটের তৎপরতা। জামিনে মুক্তি পেলে বিচারক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এমনকি ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে খোকন ও তার অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করতেন ভয় সৃষ্টি ও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে। টার্গেট করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাজানো তথ্য, বিকৃত ছবি, ভিডিও ও মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।স্থানীয়দের ভাষ্য, কখনও সাংবাদিক আবার কখনও হারবাল চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন খোকন। পরে সেই পরিচয়ের আড়ালে গড়ে তোলেন একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইল নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, অর্থ না দিলে বা বিরোধিতা করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটানো হতো।স্ত্রীর দায়ের করা নির্যাতন মামলায় আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে তিনি কারাগারে বন্দি থাকলেও তার কথিত অনলাইন চক্র নিয়ে উদ্বেগ কমেনি। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে অনেকেই অপপ্রচার ও মানহানির ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি।এ ঘটনায় সচেতন মহল বলছে, শুধু গ্রেপ্তারেই থেমে থাকলে হবে না; খোকনের সঙ্গে জড়িত পুরো ডিজিটাল অপপ্রচার চক্র, অর্থ লেনদেন, ব্ল্যাকমেইল নেটওয়ার্ক ও সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান অপপ্রচারের উৎস শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের প্রশ্ন , কারাগারে থাকা খোকনের সিন্ডিকেট কি এখনও নেপথ্যে সক্রিয়, নাকি তদন্তের মাধ্যমে এবার বেরিয়ে আসবে পুরো অপপ্রচার চক্রের ভয়ংকর চিত্র!