শেখ মফিজুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অসংখ্য বীরজনের অবদান চিরস্মরণীয়। আজ আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি এমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গল্প, যিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসাধারণ সাহস ও ত্যাগের জন্য পরিচিত। তিনি হলেন বীর বিক্রম শেখ হাসান উদ্দিন।মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ হাসান উদ্দিন তাঁর এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান করে অসংখ্য সফল অভিযান পরিচালনা করেন, যার মাধ্যমে মুক্তিকামী জনসাধারণকে নিরাপত্তা ও সাহস জুগিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতা ও ত্যাগের জন্য স্থানীয় জনগণ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানায়। মুক্তিযুদ্ধের পর তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে জাতীয় খেতাব “বীর বিক্রম” প্রদান করা হয়, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গৌরবময় মর্যাদা বহন করে।১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। সে সময় শেখ হাসান উদ্দিন চট্টগ্রামের ইপিআর (EPR)-এর হাবিলদার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তিনি মোল্লাহাট, তেরখাদা, চিতলমারি ও ফকিরহাটের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালনা করেন।বিশেষ করে মোল্লাহাট থানার ঐতিহাসিক রণক্ষেত্র চরকুলিয়ার পাশে হাড়ীদাহ নামক স্থানে তিনি পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সাহসী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এখানে ক্যাপ্টেন সেলিমের নেতৃত্বে ২৮ জন পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার নিহত হয়। পরে অলিমুদ্দি খালের পাড়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের লড়াইয়ে এক শতাধিক পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারকে ধ্বংস করা হয়। দীর্ঘ সময়ের গোলাগুলিতে পাশের গ্রামের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়লেও, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার কারণে পাকিস্তানি সেনারা শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়।পরবর্তীতে তিনি খুলনার দিকে অগ্রসর হয়ে আইজগাতি গ্রামে প্রবেশ করেন এবং শতাধিক রাজাকারকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষে তিনি খুলনা সার্কিট হাউসে তৎকালীন ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর জলিল ও জয়নাল আবেদিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। দেশের স্বাধীনতার পর তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেন।