শীতের সঙ্গে লড়াই করে মাঠে নেমেছে চুয়াডাঙ্গার কৃষক

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:বায়েজিদ জোয়ার্দার.

চুয়াডাঙ্গায় টানা শৈত্যপ্রবাহে শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইং, সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ—এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।হাড়কাঁপানো কনকনে শীতের মধ্যেই শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণের মৌসুম। প্রকৃতির প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জেলার জীবননগর উপজেলার কৃষকেরা বোরো ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সেচ পাম্প ও বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। কোথাও পাওয়ার ট্রলি, কোথাও আবার হালের গরু দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বীজতলা থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণের কাজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।ধান রোপণের শ্রমিক আনছার আলী বলেন, “কনকনে শীতের মধ্যে আমরা ধান লাগানোর কাজ করছি। এই কাজ করতে এসে দুই হাত বরফের মতো জমে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। তারপরও কাজ করছি। চুক্তিভিত্তিক প্রতি বিঘা জমিতে ২ হাজার ৪০০ টাকা নিই। আর দড়ি দিয়ে লাইন করে লাগালে ৩ হাজার টাকা বিঘা পাওয়া যায়। ভোরে কুয়াশার মধ্যে বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলে মাথায় করে ক্ষেতে এনে ধান রোপণ করি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আয় হয়।”আরেক শ্রমিক আবদার হোসেন বলেন, “এখন ধান লাগানোর মৌসুম, তাই কাজ বেশি। মৌসুম শেষ হলে কাজ কমে যাবে। তীব্র শীতের মধ্যেও ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা ধানের চারা রোপণ করছি। ঠান্ডা পানি আর কাঁদার মধ্যে কাজ করতে করতে এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।”ধান চাষি জিয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমি দুই বিঘা জমিতে রড মিনি জাতের ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। জমি ও চারা সব প্রস্তুত আছে। তবে সবাই একসঙ্গে ধান রোপণে নামেননি।”চাষি আশিকুর রহমান বলেন, “ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় ধান লাগালে চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কয়েকদিন পর ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছি।”জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, “চলতি মৌসুমে জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৭ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সপ্তাহখানেক ধরে ধান রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্য দেওয়া হচ্ছে।”চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, রবিবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এ দিন সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।এ ছাড়া উত্তরের হিমশীতল বাতাস, ঘন কুয়াশা ও মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আগামী দু–দিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করবে বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *