চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দিঘী ইউনিয়নে বিএনপির অফিস ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জগন্নাথ দিঘী ইউনিয়নের ফকির বাজারে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করা হয়।জগন্নাথ দিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের পরপরই দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামে যে সহিংস ঘটনা শুরু হয়েছে, তা কারও কাম্য নয়। তিনি বলেন, হার-জিত থাকবে; যিনি জয়লাভ করবেন, তিনি সকল জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সবার নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করবেন। আপনারা অবগত আছেন, জগন্নাথ দিঘী ইউনিয়নে নির্বাচনের আগে ও পরে কী ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতে ফকির বাজারে আমাদের শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে কোনো এজেন্ট প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পথে পথে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়ে ভোট প্রদানে বাধা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথ দিঘী ইউনিয়নে তারা তাণ্ডব চালিয়ে আরাফাত রহমান কোকো নির্বাচনী অফিস ও শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ভেঙে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবির আব্দুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ৫ আগস্টের পর সারা বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও চৌদ্দগ্রাম এখনো স্বাধীন হয়নি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ার পরও চৌদ্দগ্রামে বিএনপি পরিবার নিরাপদ নয়।তিনি অভিযোগ করেন, রবিবার রাতে ঢাকায় জামায়াতের আমিরের বাসায় তারেক রহমান চৌদ্দগ্রামের এমপি ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. তাহেরকে যেভাবে বুকে জড়িয়ে নেন, তার পরপরই এমপি সাহেবের লোকজন রাতে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর চালায়। তিনি বলেন, এটাই তাদের আসল রূপ। আমরা বিএনপি পরিবার তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—চৌদ্দগ্রামের দিকে নজর দিন, আপনার নেতাকর্মীরা ভালো নেই।উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দুদিন আগে জামায়াত-শিবিরের লোকজন পায়ের খোলার ছাত্তার মিয়ার ছেলে রনি তার গলায় ছুরি ধরে নির্বাচনে এজেন্টের দায়িত্ব পালন না করতে হুমকি দেয়। নির্বাচনের দিন মাগরিবের সময় তাকে একা পেয়ে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে প্রহার এবং ছুরি দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। ভয়ে তিনি অন্যের বাড়ির ছাদে একদিন-একরাত অবস্থান করেন। পরে পুলিশকে ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে এলেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মু. বেলাল হোসাইন বলেন, রবিবার রাতের ঘটনায় কারা তাদের অফিস ভাঙচুর করেছে তা তারা দেখেননি। তিনিও ঘটনাটি দেখেননি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, অন্য কেউ ঘটনা ঘটিয়ে জামায়াতকে দোষারোপ করতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে, তবে এ অস্থিরতা সৃষ্টি করতে কেউ পারবে না।চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ কাউসার জানান, নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে রবিবার রাতের ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।এ সময় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মুখলেসুর রহমান রানা, ইকবাল হোসেন সোহেল, পাভেল হাসান; উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মেম্বার; ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম; সদস্য কবির হোসেন প্রমুখ।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি দাউদ ইসলাম, উপদেষ্টা আবুল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, মজুমদার আব্দুল লতিফ, ইকবাল হোসেন সোহেলসহ অন্যান্য