সিলিন্ডার নেই, দাম চড়ছে: সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সংকটের শিকার। বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার নেই, এবং যেগুলো আছে, তার দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের অনেক বেশি।ঘরোয়া জীবন বিপর্যস্তমোহাম্মদপুরের রুবিনা বেগম বলেন, “অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে পারছি না। কয়েক দিন প্রতিবেশীর লাইনের গ্যাসে রান্না করেছি, কিন্তু এখন সেখানেও চাপ নেই। বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে খাওয়া সম্ভব নয়, সব কিছুতেই দাম বেশি।”সীমিত আয়ের পরিবারের জন্য রান্না করাই এখন বড় দুশ্চিন্তা। অনেকে রাতের বেলা খাবার তৈরি করে রাখছেন, তবে এতে শিশুদের জন্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে।ব্যবসা ও হোটেলেও প্রভাবতেজগাঁও ও মোহাম্মদপুর এলাকার হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোও সংকটে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, “দিনে গ্যাস পাওয়া যায় না, অল্প সময়ের জন্য যেটুকু আসে তাতেও রান্না সম্ভব হয় না। ব্যবসা প্রায় বন্ধের পথে।”অটোগ্যাস খাতও বিপর্যস্তদেশের প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন গ্যাসের জন্য ভুগছে। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ দাবি করেছে, মোট ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।গ্যাস সংকটের কারণতিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, তুরাগ নদীর নিচের পাইপলাইনে নৌকার আঘাত এবং বুড়িগঙ্গার নিচের পাইপলাইনে লিকেজ গ্যাস সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি করেছে। মিরপুর রোডে একটি ভালভ ফেটে গেলে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেরামত সম্পন্ন হয়েছে।সরকারের উদ্যোগবিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এলপিজি আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য হলো ভোক্তাদের জন্য দাম কমানো ও বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা।ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দাবিএলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি বলেছে, প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ সীমিত এবং এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষজ্ঞদের মতামতকনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করেন, কিছু ব্যবসায়ী ও পাইকারদের যোগসাজশ ও পরিকল্পিত কারসাজি গ্যাস সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *