একাত্তরের ক্ষত বুকে নিয়েই বিদায় বীরাঙ্গনা টেপরী রানীর

মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী নারী ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বীরাঙ্গনা শ্রী টেপরী রানী আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে পারিবারিক শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাতিজা বেগম, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বীরাঙ্গনা শ্রী টেপরী রানীর মৃত্যুতে তাঁরা গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, শ্রী টেপরী রানী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের এক নীরব সাক্ষী। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে গেছেন।স্বাধীনতার পর জাতির পিতা Sheikh Mujibur Rahman যুদ্ধকালীন নির্যাতনের শিকার নারীদের ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।শ্রী টেপরী রানীর প্রস্থান জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে নতুন প্রজন্ম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *