সরকারি দামে মিলছে না এলপি গ্যাস, সংকটে সাধারণ মানুষ ও খুচরা ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার মোঃ চানমিয়া শিকদারঃ

সারা দেশে চলছে গ্যাসের সংকট । সরকার জনগণ ডিলারগণ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে একে অপরকে ছুড়ে দিচ্ছেন তবুও হচ্ছে না সমাধান মিলছে না গ্যাস । গ্যাস ক্রয় করবার জন্য এক মহল্লা থেকে আরেক মহল্লা ছুটে চলেছেন প্রতিনিয়ত তবুও মিলছে না গ্যাস যতটুকু মিলছে তাও আবার চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের । এতে করে পাড়া মহল্লার খুচরা ক্রেতা বিক্রেতার সাথে দ্বন্দ্ব চরমাকার রূপ ধারণ করছে । এর থেকে পরিত্রাণ কি ? এমন একটি অনুসন্ধান করতে গিয়ে ঢাকা আদাবর এলাকার একজন খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কিছু কারণ উল্লেখ করেন । উক্ত খুচরা বিক্রেতা ব্যক্তি জানান, গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ঢাকার বড় বড় ডিলারেরা ঢাকায় গ্যাস ঢুকালে তাদের কেয়ারিং খরচ রাস্তার যানজট বাবদ ডাউনপেমেন্ট পরবর্তীতে ডিলার পয়েন্ট এর নিকট থেকে এলাকাভিত্তিক ডিলার পয়েন্ট এ গ্যাস পৌঁছালে এলাকার ডিলার পয়েন্ট ব্যক্তিদের নিকট থেকে আমাদের অর্থাৎ মহল্লার খুচরা বিক্রেতাগণ ট্রাকে করে বোতলজাত লিকুইড এই গ্যাস যখন আমাদের দোকানে ঢোকে ঢোকার আগে পর্যন্ত আমাদের একটি কেয়ারিং খরচ বহন করতে হয় পরবর্তীতে আমাদের স্টাফ বেতন নিজের বেতন দোকান ভাড়া বিদ্যুৎ বিল আমাদের নিজস্ব দোকান থেকে এলপি গ্যাসের বোতল বাসা বাড়িতে কখনো দোতলা কখনো ছয়তলা কখনো দশতলা কখনো ২০ তলায় পৌঁছে দিতে আমাদের ছোট মিনি ট্রাকের প্রয়োজন হয় সেখানেও স্টাফ প্রয়োজন হয় তাদের বেতন ট্রাক ভাড়া সহ বিবিধ খরচ হয় এমনটাই এই খুচরা ব্যবসায়ী উল্লেখ করেন । তিনি আরো বলেন সরকার সবসময়ের জন্য ক্রেতাদের পক্ষে আমাদের উপরে একপ্রকার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা দোকানে দেল জরিমানা করেন এমতাবস্থা চলতে থাকলে দেশের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য অথবা খুচরা ব্যবসায়ীদের একপ্রকার ব্যবসায়িক অনীহা সৃষ্টি হবে তখন জনগণের আরো দুর্ভোগ বেড়ে যেতে পারে বলে এমনটাই আশঙ্কা করেন এই খুচরা ব্যবসায়ী । সরকারি তদারকি মনিটরিং টিমের উদ্দেশ্যে তিনি গ্যাস কোম্পানির নীতিনির্ধারক কমিটিকে বলেন গ্যাস যেখান থেকে উৎপাদন করা হয় উৎপাদনে ঘাটতি থাকলে সরবরাহ কমে যায় যতটুকু সরবরাহ করা যায় তখন দাম এমনিতেই একটু বেড়ে যায় তারপরে হাত বদল থেকে হাত বদল বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট থেকে হাতে এসে পৌঁছালে ক্রেতা এবং মধ্যে গ্যাসের দাম নিয়ে মনমালিন্য সৃষ্টি হয় তার থেকে উচিত হবে গ্যাস যেখান থেকে উৎপাদিত হচ্ছে সেখানে দেশের চাহিদা মোতাবেক গ্যাস লিকুইড উৎপাদন হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে সরকারের নজরদারি দেওয়া উচিত । আমরা সাধারণ খুচরা ব্যবসায়ী প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ টা সর্বোচ্চ গেলে দশটা এলপি গ্যাসের বোতল বিক্রি করে থাকি এতে করে আমাদের সংসার চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে তারপরে যদি সরকারের কোন প্রতিনিধি এসে আমাদের জেল জরিমানা করে সেক্ষেত্রে আমাদের আর কি করারই বা থাকবে সরকারের উচিত উৎপাদনের সীমান্ত রেখায় গিয়ে এলপি লিকুইড উৎপাদনে ঘাটতি আছে কিনা সেদিকে নজর দেওয়া আশা করি সরকার ক্রেতা এবং বিক্রেতার মাঝে অগ্রহণযোগ্য বিরোধ মেটাতে সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন । এ বিষয়ে একজন ক্রেতার সাথে সঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন সরকারি নির্ধারিত দামে আমরা গ্যাস পাচ্ছি না যদি কোন কারসাজি অথবা অধিক মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার কোন পক্ষের কু মতলব থাকে সে ক্ষেত্রেও সরকারের একটি বিষয় গুরুত্ব দেওয়া উচিত উৎপাদিত চাহিদা মোতাবেক গ্যাস ডিলারদের হাতে যাওয়ার পরে কত টাকায় কেনাবেচা হল তার তথ্য উপাত্ত সরকারের হাতে নেওয়া এবং লিকুইড উৎপাদনে সরকারের নীতি নির্ধারক কমিটির আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *