৭১ এ রণাঙ্গনের সম্মুখসারিতে থাকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যাশা ও যুদ্ধের সময়ের বাস্তবকাহিনী

৭১ এ রণাঙ্গনের সম্মুখসারিতে থাকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যাশা ও যুদ্ধের সময়ের বাস্তবকাহিনী
মোঃ চানমিয়া শিকদার :ষ্টাফ রিপোর্টার
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি
হয়ে উঠুক বাংলাদেশ বিশ্বসেরা,,,,,
এমন স্বপ্ন বিভোরে ৭১ এ রণাঙ্গনের সম্মুখ সারিতে থাকা এক বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যাশা থেকে আজকের এই প্রতিবেদন । বলছি দুরন্ত দুর্বার সাহসী টগবগে এক যুবক যার চোখে ছিল অগ্নি রেখা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এ মাটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মহাসপ্ন বুকে ধারণ করে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া এক বীর বাঙালি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মিজানুর রহমান মিজান সাহেবের কথা। জনাব মিজানুর রহমান মিজান জন্ম ১৯৫১ সাল ইংরেজি গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার অন্তর্গত পাইককান্দি ইউনিয়নে । ছেলেবেলা থেকেই দুরন্ত দাপুটে এক কিশোর কথাবার্তায় ছিলেন স্পষ্টবাদী সোজাসাপ্টা। পশ্চিমা পাকিস্তানি পূর্ব বাঙালি জাতির প্রতি এক ধরনের হেনস্থা ও জুলুম নির্যাতন নিপীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে আর বাংলাকে উর্দু ভাষায় রূপান্তরিত করার যে নীল নকশা বাস্তবায়ন করার লক্ষণ নিয়ে পশ্চিমা-পা খানাদার বাহিনী যখন মরিয়া ঠিক সেই মুহূর্তে মাটি জাতি এবং রাষ্ট্রের পক্ষে টগবগে এই যুবক স্বাধীনতা যুদ্ধে যাওয়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করেন । শুরু হয় তার এক ব্যতিক্রম ধর্মী জীবন যে জীবনে তিনি কখনোই মায়া নামক শব্দকে গ্রহণ করেননি রাষ্ট্রের জন্য, জীবনে তিনি কখনো ভালবাসার উপলব্ধি হৃদয়ের গহীনে ধারণ করেননি মাটির জন্য, এই বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলনে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে । ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পূর্বকালীন সময়ে প্রথম উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন বাংলাদেশে এরপর তিনি পরিপক্ক পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ভারতের চাকুলিয়া নামক ক্যাম্পে । জনাব বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান মিজান সাহেব অত্যন্ত দূরদর্শীতা পারদর্শিতা বিচক্ষণতা মূলক মাইন্ড সেটআপ থাকার কারণে অতি সহসায় স্বল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধের কলাকৌশল ও সকল প্রকারের অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে অতি সহসাই প্রশিক্ষণে দক্ষতার সাথে সফলতা অর্জন করেন । চলে যান ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এক কথায় মহান মুক্তিযুদ্ধে । তিনি অত্যন্ত শক্ত হাতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। তিনি যুদ্ধ করেন গোপালগঞ্জ সদর থানার অন্তর্গত পাটিকেল বাড়ি, মানিককহার,তালারঘাট, ফুকরা,ও সবশেষে ভয়ংকর ও বিধ্বস্ত বীভৎস গোপালগঞ্জের ভয়ংকর যে যুদ্ধ ভাটিয়াপাড়া মধুমতি নদীর পাড় ঘেঁষে যে যুদ্ধ হয়েছিল বর্তমান কাশিয়ানী থানার অন্তর্গত অন্তর্গত সেই যুদ্ধে তিনি অকুতোভয় বীর সিংহের মতো গর্জন দিয়ে তার সহকর্মীদের নিয়ে সার্বভৌমত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য যুদ্ধ করেন । যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি যে সকল বাঙালি সামরিক অফিসারদের নেতৃত্বে ও সুদক্ষ বিচক্ষণ দিকনির্দেশনায় যুদ্ধ করেন তারা হলেন,,,,ক্যাপ্টেন বাবুল সাহেব, ক্যাপ্টেন রব সাহেব, ক্যাপ্টেন হালিম সাহেব পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন হালিম সাহেব মেজর জেনারেল পদবী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তার সাথে যুদ্ধকালীন সময়ে কমান্ডার ছিলেন সুবেদার মেজর জনাব হাসান গাজী, সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, ক্যাপ্টেন সোবাহান সাহেব । যুদ্ধকালীন সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মিজানুর রহমান মিজান সাহেব ৮ নং কমান্ডারের নেতৃত্বে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যুদ্ধ করেন ৮ নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মনজুর সাহেব পরবর্তীতে তিনি মেজর জেনারেল পদে পদোন্নিত হয়ে অবসর গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বড় কঠোর কঠিন পা খানাদার বাহিনীদের জুলুম নির্যাতন ছিল ভয়ংকর । মূলতপক্ষে ১৯৪৭-৪৮ পাক ভারত যুদ্ধের পর পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চলমান পরিস্থিতির সূচনা ঘটে সেটা ধীরে ধীরে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের রূপ নেয়। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যস্থান অবশেষে সকল চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে স্বাধিকার আন্দোলনের বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনতা সহ আজকের জনাব বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান মিজান সাহেবের মত আরো অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেদিন জীবনের মায়া ছেড়ে স্ত্রী সন্তানের কথা ভুলে একটি অস্তিত্ব একটি ভূমি একটি ভৌগলিক অবস্থান একটি জাতি একটি ভাষা একটি মানচিত্র একটি লাল সূর্যের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন বীরের বেশে হুংকার ছেড়ে মাটির টানে । ২০২৫ এর যবনিকা শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ডিসেম্বরকে বিদায় জানিয়ে আজকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মিজানুর রহমান মিজান সাহেবকে সশ্রদ্ধ চিত্তে ২০২৬ সাল আগত ১৮ কোটি জনগণের এই বাংলাদেশ এমন মিজান সাহেব সহ লক্ষ লক্ষ মিজান সাহেবদেরকে শ্রদ্ধা সম্মান ও ভালবাসার জায়গায় স্থান দেবে বলে বিশেষ তথ্যসূত্রে এলাকাবাসীর মুখে মুখে চলমান । বিশেষ তথ্যসূত্রে জানতে পারা যায় জনাব মিজানুর রহমান মিজান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে একটি সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করার পর তিনি একটি প্রাইভেট ফার্মে প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দক্ষতা অভিজ্ঞতার আলোকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সহিত চাকরি সম্পন্ন করে বর্তমানে তিনি নিজ গ্রামে প্রকৃতির অপরূপ লীলার মাঝে ফুল পাখি জল প্রকৃতি তরুলতা বেষ্টিত তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন । বয়োবৃদ্ধের কারণে আগের মত হাঁটতে পারেন না দৌড়াতে পারেন না তবে দেশের কথা যখন উঠে আসে তখন তার বুকে এবং মুখে সেই যৌবনের স্টেট ফরওয়ার্ড মনোভাব শক্তিশালী বাক্য বিনিময় দেশের প্রতি গভীর মমতা বোধ দেশের জনগণের প্রতি নিরঙ্কুশ ভালোবাসা এবং বাংলাদেশের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অঢেল সম্মানে সম্মান করেন এবং দেশকে পৃথিবীর বিশ্বসেরা দেশ হিসেবে তৈরি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন ।তার নিজ জন্মস্থান এলাকাবাসীর বিশেষ সূত্র বলছে বাংলাদেশের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রত্যেকটা বাঙালির উচিত শ্রদ্ধা সম্মান আর ভালোবাসার জায়গায় রাখা । স্বাধীনতার এই ৫৪ বছর পরে এসে পাকখানাদার বাহিনীদের ভয়ংকর জ্বালাও পোড়াও নির্যাতনের বিরুদ্ধে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান মিজানকে,,,,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি,,,, এর পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ সম্মান জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *