ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন করে ভয়ভীতি ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।রোববার ( ১০ মে ) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ উপজেলার আলী আজম ও কুমিল্লা কাপ্তাইয়ে আশিকুর রহমান রনি। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে নানা অজুহাতে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দেখতে চান ওই দুই ব্যক্তি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী অনুমতির কথা জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণও করা হয়।ঘটনার একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষকরা আলী আজমকে আটক করেন। তবে অপর প্রতারক আশিকুর রহমান রনি মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।ঘটনার দিনই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন।বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, দণ্ডপ্রাপ্তরা প্রতারণার কৌশল হিসেবে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিলেন। আদালতের এ রায় এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।