ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের জনবল সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। প্রায় চার লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিক্যাল স্টাফের ঘাটতির কারণে স্বাভাবিক সেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৩টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৭টি শূন্য রয়েছে। কনসালটেন্ট পদে বড় ঘাটতি থাকায় বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রায় বন্ধের মুখে। একইভাবে নার্সের স্বল্পতা ও প্রেষণ-ছুটির কারণে সেবার মান আরও নিচে নেমেছে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এনেস্থিসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় সিজারিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন বন্ধ রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও রেডিওলজিস্ট ও টেকনোলজিস্টের অভাবে এক্স-রে সেবাও চালু করা যাচ্ছে না। ফলে রোগীদের অতিরিক্ত খরচে বাইরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।প্রতিদিন শত শত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা নারী, পুরুষ ও শিশুদের দীর্ঘ সারি। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।অন্যদিকে, শয্যা সংকট চরম আকার ধারণ করায় অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নমানের খাবার ও ওষুধ সংকটের অভিযোগও রয়েছে।এদিকে সম্প্রতি হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন শিশুকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি আলাদা কর্ণার চালু করেছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত জনবল দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।