জেলা প্রতিনিধি.ব্রাহ্মণবাড়িয়া.
জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, মূল লক্ষ্য হলো সমাজের অসহায় ও কর্মক্ষম মানুষদের স্বাবলম্বী করে তোলা।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামের খর্বাকৃতি দম্পতি মোহাম্মদ ফরহাদ ও আরিফা আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। অসহায় এই দম্পতির জীবনমান উন্নয়নে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে ফরহাদকে একটি দোকান উপহার দিয়ে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।উলচাপাড়া বাজার মাঠের পশ্চিম পাশে নবনির্মিত দোকানটি উদ্বোধন করে ফরহাদের হাতে চাবি তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মোহাম্মদ ইশতিয়াক ভূঁইয়া, রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।জানা যায়, উলচাপাড়া গ্রামের রিকশাচালক মন মিয়ার বড় ছেলে তিন ফুট উচ্চতার খর্বাকৃতি মোহাম্মদ ফরহাদ মিয়া। তিনি পেশায় রুপার চেইন তৈরির কারিগর ছিলেন। চেইন তৈরির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়েই কোনোরকমে তার সংসার চলত।প্রায় তিন বছর আগে তিনি সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের পুথাই গ্রামের আলী আকবরের কন্যা আড়াই ফুট উচ্চতার আরিফা আক্তারকে বিবাহ করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে ছিল পারস্পরিক ভালোবাসা ও সুখ।বিবাহের কয়েক মাস পর ফরহাদের পিতা তাদের আলাদা করে দিলে, অন্যের জায়গায় বছরে সাত হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ঘর নির্মাণ করে সংসার শুরু করেন ফরহাদ। তবে দীর্ঘদিন চেইন তৈরির কাজের সময় ধোঁয়ার সংস্পর্শে থেকে ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং একপর্যায়ে কর্মক্ষমতা হারান। এতে করে তাদের সংসারে চরম অভাব-অনটন নেমে আসে।পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে পরিবারটিকে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী সহায়তা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ফরহাদকে একটি দোকান উপহার দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, “ফরহাদ একজন প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষ। জেলা প্রশাসক তার কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”খর্বাকৃতি ফরহাদ মিয়া বলেন, “জেলা প্রশাসক স্যার আমাকে দোকান উপহার দিয়ে কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এতে আমার পরিবার নতুন করে বাঁচার আশা পেয়েছে। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “সমাজে ফরহাদের মতো অনেক মানুষ আছেন, যারা কাজ করতে চাইলেও সুযোগ পান না। তাদের জন্য হালাল উপার্জনের পথ তৈরি করে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এই উদ্যোগ তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।