ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতদের মৃত্যু একদিনে না হওয়ায় ঘটনাটি নতুন করে রহস্য তৈরি করেছে। একই সংঘর্ষে আহতদের কেউ ঘটনাস্থলে, আবার কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিন্ন দিনে মারা যাওয়ায় এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, মঙ্গলবার উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই আক্তার মিয়া (৪৫) ও হাবিবুর রহমান (৩৫) নিহত হন। এছাড়া আরও একজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।পরবর্তীতে গুরুতর আহত মাফাজুল ইসলাম (৫০) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) মারা যান। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ জনে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা এবং বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অংশ নেয় এবং বাইরের লোকজনও এতে যুক্ত হয়। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক বলেন, জাল ভোটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া সন্দেহ ও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। বাইরের লোকজন যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নাসিরনগর থানার ওসি মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।