মহাসড়কে আবারও প্রাণহানি: চারজনের মৃত্যুতে হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

     মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি  
 জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ========================

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বৈশামোড়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় আবারও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল দীর্ঘদিন ধরেই চলমান থাকলেও এসব নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
একাধিক সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবু তাহের দায়িত্ব গ্রহণের পর মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চেয়ে বিভিন্ন চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বেশি সক্রিয় ছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে মহাসড়কের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ কতটা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ আবু তাহেরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল, শৃঙ্খলার অবনতি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক সংকেত এ একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রশ্ন, মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে কি এতগুলো প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল না।
সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রতিনিয়তই ঝরে যেতে পারে আরও তাজা প্রাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *