মোঃগোলজাহার হোসেন হীরা,বিশেষ প্রতিনিধি.
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রয়াত বিচারপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, সাবেক ছাত্রনেতা ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য বিচারপতি বজলুর রহমান ছানার ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা স্মৃতি পরিষদ।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম-উদ-দৌলা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য আহমেদ সফিউদ্দিন। প্রধান আলোচক ছিলেন স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান।এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা মাসুদ রানা সরকার, সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মিন্টু, বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও ভাষাসৈনিক হাবিবুর রহমান শেলীর ছোটভাই মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু, সাংবাদিক রাজু আহমেদসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ সফিউদ্দিন বলেন, দুর্নীতি ও ঘৃণার রাজনীতির রাহুগ্রাস থেকে দেশ ও দেশবাসীকে বাঁচাতে হবে। নাহলে সকল আত্মত্যাগ ও অর্জন ব্যর্থ হয়ে যাবে। লুটেরা ও দুর্নীতিবাজরা দেশকে জিম্মি করে রেখেছে। তরুণ প্রজন্মকে বিচারপতি বজলুর রহমান ছানার আদর্শ ধারণ করে এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।প্রধান আলোচক সাইদুর রহমান বলেন, বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা ছিলেন ন্যায় ও নির্ভীকতার প্রতীক। রাজপথ থেকে উঠে এসে তিনি বিচারাঙ্গনে ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপোষহীন ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর বিচারিক কলম ছিল দলীয় প্রভাবমুক্ত ও সাহসী।বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯৮ সালের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে ভয়াবহ বন্যার সময় বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা আজও এলাকাবাসীকে রক্ষা করে চলেছে। দায়িত্ব ও নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন শতভাগ অবিচল।বক্তব্যে বিচারপতি বজলুর রহমান ছানার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, ছাত্ররাজনীতি, আইন শিক্ষকতা, আইন পেশা ও বিচারিক দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণ করা হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।উল্লেখ্য, বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।