পূর্ণ বার্ষিক ভর্তি ফি নেওয়া যাবে না: অমান্য করলে চাকরি হারাবেন প্রধান শিক্ষকরা

মোঃচানমিয়া শিকদার,স্টাফ রিপোর্টার.

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আর কোনোভাবেই পূর্ণ বার্ষিক ভর্তি ফি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করতে পারবে না। প্রতিবছর ভর্তি ফি বাবদ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হতো বলে জানা গেছে, যা শিক্ষা খাতকে কলুষিত করছিল—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এ রায় এসেছে।সরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মী সাংবাদিক আলী আজগর ইমন গত সরকারের আমলে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সরেজমিন তদন্ত ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন।সাংবাদিক আলী আজগর ইমন গণমাধ্যমকে জানান, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই তিনি এই রিট দায়ের করেছিলেন। তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবক নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির। সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে তারা হিমশিম খান। এর মধ্যে অতিরিক্ত ও অগ্রহণযোগ্য ভর্তি ফি আদায় তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যা অত্যন্ত অমানবিক।তিনি আরও বলেন, একজন পিতা-মাতার কাছে সন্তানই আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসার সর্বোচ্চ স্থান দখল করে। সন্তানকে সুশিক্ষিত ও মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তাই শিক্ষা খাতে যে কোনো অনিয়ম রোধ করা সময়ের দাবি।প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূর্ণ ভর্তি ফি বাবদ অর্থ আদায় করেন, তবে তার চাকরি বাতিলসহ সরকারি শিক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এছাড়া গ্রাম, উপজেলা শহর, জেলা শহর ও বিভাগীয় শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মাসিক বেতন কাঠামো নির্ধারণের কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সাড়া লক্ষ্য করা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *