
শাহজাদপুরে ভেজাল কীটনাশক কারখানায় টাস্কফোর্সের অভিযান, জেল ও জরিমানা
মোঃ গোলজার হোসেন হীরা বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিভিন্ন নামীদামী ব্র্যান্ডের কীটনাশক তৈরির সময় হারিজ এগ্রো কেয়ার নামের একটি ভেজাল কীটনাশক কারখানায় টাস্কফোর্সের অভিযানে পরিচালিত হয়েছে। এসময় বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভেজাল ও নকল কীটনাশক এবং মোড়ক জব্দ করা হয়।
অভিযান শেষে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারখানা মালিক মোঃ হারিজ উদ্দিনকে ১ মাসের কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হারিজ উদ্দিন উপজেলার মশিপুর গ্রামের আব্দুল বারিকের ছেলে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ সোহেল শেখ, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ জেরিন আহমেদ, R A B - ১২ এর একটি দল ও শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি দল।
আজ মঙ্গলবার ১৬ই জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ সোহেল শেখ এর নেতৃত্বে R A B ১২ এর একটি দল সহ শাহজাদপুর উপজেলার মশিপুর উত্তরপাড়ায় গোপনে পরিচালিত একটি ভেজাল কীটনাশক কারখানায় অভিযান চালায়।
পরে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন উপস্থিত হন। এসময় উপস্থিত কর্মকর্তারা কীটনাশক কারখানা পরিদর্শন করেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ ফরিদুল ইসলাম ও শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।
এসময় দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন কোম্পানির ২৮ থেকে ৩০টি ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত বিপুল পরিমাণ ভেজাল কীটনাশক ও কীটনাশক তৈরি বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং খালি মোড়ক। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এছাড়াও তাদের মালিকানাধীন হারিজ এগ্রো কেয়ারের উৎপাদনের ঠিকানা দেয়া আছে গাজীপুর, ঢাকা বিভিন্ন স্থানের নাম ব্যবহার করে নাটোর এবং ও বগুড়া নকিন্তু সেই পণ্য অনুমোদনহীন এই গোপন কারখানায় সাধারণ শ্রমিকের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, লোকচক্ষুর আড়ালে প্রায় ১ যুগ ধরে রাতের অন্ধকারে এখানে ভেজাল কীটনাশক তৈরি করা হচ্ছে। কারখানা এমনভাবে বন্ধ থাকে যেন বাইরে থেকে মনে হয় এই ভবন পরিত্যক্ত রয়েছে। এছাড়াও এই উৎপাদিত ভেজাল কীটনাশক তালগাছি বাজারে অবস্থিত তাদের দোকান হারিজ বীজ ভান্ডার সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এদের কারণে দেশের প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, আর এরা রাতারাতি হয়ে যাচ্ছেন কোটিপতি।
টাস্কফোর্সের অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে প্রায় ২৮টি ব্র্যান্ডের ভেজাল কীটনাশক তৈরি হয়ে আসছে। আজ টাস্কফোর্সের অভিযানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার ভেজাল কীটনাশক তৈরির কাঁচামাল, উৎপাদিত ভেজাল কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। সেই সাথে এই কারখানার মালিক ও ভেজাল কীটনাশকের মূল হোতা হারিজ এগ্রো কেয়ারের মালিক মোঃ হারিজ উদ্দিনকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।