
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি
জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ========================
ফোন বন্ধ, দরজাও ছিল ভেতর থেকে আটকানো। টানা কয়েকদিন কোনো খোঁজ না মেলায় সন্দেহ দানা বাঁধে প্রতিবেশীদের মনে। অবশেষে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করতেই বেরিয়ে আসে এক মর্মান্তিক রহস্য , ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এক অটোরিকশা চালকের গলিত মরদেহ।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা তিতাসপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফাহিম ওরফে সোহাগ (২০) নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত সোহাগ বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের সাকির আহম্মদের ছেলে। তিনি শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকায় বাবা, মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহাগের স্ত্রী বর্তমানে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পারিবারিক কলহের জেরে কয়েক মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকেই সোহাগ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। কোরবানির ঈদের দিন গ্রামের বাড়ি থেকে শহরের বাসায় ফিরে আসার পর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় ধরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এবং বাসার দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কয়েকদিন আগেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছে পুলিশ।
নিহতের স্বজনরা জানান, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপের কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।