
জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া.
সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলছে অবৈধ গ্যাস সংযোগের রমরমা বাণিজ্য। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আবাসিক ও বহুতল ভবনে গোপনে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি বিচ্ছিন্ন করা সংযোগও রহস্যজনকভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় পুনরায় চালু করা হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের ট্যাংকেরপাড় বোরিং মাঠ ঘাড়াবাড়ি এলাকা, মাদকবাড়ি থেকে বিরাশার রোড, মিনি পার্কের পূর্ব পাশের বহুতল ভবন এবং পনিউট ডিসি প্রজেক্ট এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিস্তার ঘটেছে। শুধু এসব এলাকাই নয়, শহরের বিভিন্ন অলিগলিতেও রয়েছে অসংখ্য অবৈধ সংযোগ।এ ঘটনায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজিএমের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে জানতে ১৩ ও ১৪ মে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিতভাবে বাখরাবাদ গ্যাস অফিসে যাতায়াত করেন। এমনকি ডিজিএমের কক্ষে তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকের অভিযোগও উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— যেখানে ২০১৬ সাল থেকে নতুন গ্যাস সংযোগ ও রাইজার স্থানান্তর বন্ধ, সেখানে কীভাবে একের পর এক ভবনে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং কার ইশারায় চলছে এই অবৈধ বাণিজ্য?দেশজুড়ে গ্যাস সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ যখন দিশেহারা, তখন একটি চক্রের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বাখরাবাদ অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও সংশ্লিষ্টদের আর্থিক লেনদেন তদন্ত করা হলে বেরিয়ে আসবে অবৈধ গ্যাস সিন্ডিকেটের ভয়ংকর চিত্র।তবে এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এমডির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফোন রিসিভ করে বলেন, “সরকারি নম্বর ফোন না ধরার কোনো কারণ নেই। আমি বিষয়টি এমডি স্যারকে জানাব। আশা করছি, দুই দিনের মধ্যে এর ফলাফল পাওয়া যাবে।”