
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি.
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর-৩ আসনের মানুষের সামনে একই স্বপ্ন— তিতাস নদীর উপর একটি সেতু। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন আজও অধরাই। বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজের অগ্রগতি না থাকায় চরাঞ্চলের মানুষের মনে জমেছে ক্ষোভ, হতাশা আর একরাশ প্রশ্ন।স্থানীয়দের অভিযোগ, যেই সংসদ সদস্যই দায়িত্বে থাকুন না কেন, নির্বাচন এলেই সেতুর প্রতিশ্রুতি —নির্বাচন শেষে নীরবতা। ফলে তিতাসের দুই পাড়ের হাজারো মানুষ প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন — সবকিছুতেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সেতুহীনতা।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় মানুষের হতাশা আরও বেড়েছে। তবে ২০২৬ সালে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীরা চরাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছেন। লক্ষ্য— দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খোঁজা এবং জনগণের মতামত সংগ্রহ।এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কেউ বলছেন মজলিশপুর দিয়ে সেতু হওয়া উচিত, আবার কেউ দাবি তুলছেন বাকাইল অংশে সেতু নির্মাণের। পাল্টাপাল্টি মতামতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।তবে সরেজমিনে দৈনিক সংকেত এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তিতাস নদী - এর শিমরাইলকান্দি ও শাহবাজপুর অংশে আগে থেকেই দুটি সেতুর মাঝামাঝি প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে খলাপাড়া অঞ্চল, যা ভৌগোলিকভাবে একটি মধ্যবিন্দু। স্থানীয়দের মতে, এই স্থানেই যদি সেতু নির্মাণ করা হয়, তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে।খলাপাড়া হয়ে সম্ভাব্য সেতু নির্মাণ হলে শ্যামপুর, আনন্দপুর, চানপুর, গগীনাথপুর, দতখলা, চর ইসলামপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজারো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। শুধু তাই নয়, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং ধর্মীয় কার্যক্রমেও আসবে গতি।অন্যদিকে, যেসব স্থান নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে, সেগুলোর বেশিরভাগই সীমিত সংখ্যক মানুষের জন্য উপযোগী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।এখন প্রশ্ন একটাই—এই সেতু কি সত্যিই বাস্তবায়নের পথে, নাকি আবারও নতুন করে জন্ম নিচ্ছে আরেকটি প্রতিশ্রুতির গল্প? তিতাস পাড়ের মানুষের চোখ এখন সেই উত্তরের দিকেই।