
নিজস্ব প্রতিবেদক,পাবনা.মোঃএশারুল.
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির পদের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা চালু থাকলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংবিধানে কোনো সহজ পথ নেই বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও রাষ্ট্রপতির অবস্থান:উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শূন্যতা পূরণে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যেহেতু তিনি ১৯৭২ সালের সংবিধানের আলোকে একটি নির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত, তাই তার পদের বৈধতা ও সুরক্ষা ওই সংবিধান দ্বারাই নির্ধারিত।বর্তমান বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান (যা এখন পর্যন্ত বাতিল বা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা হয়নি) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে কেবল তিনটি বিশেষ উপায়ে পদমুক্ত করা সম্ভব। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিলে। Impeachment সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'সংবিধান লঙ্ঘন' বা 'গুরুতর অসদাচরণের' অভিযোগে জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে। সংবিধানের ৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যথাযথ মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে।যেহেতু বর্তমানে কোনো নির্বাচিত জাতীয় সংসদ নেই, তাই সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার কোনো আইনি ফোরাম এই মুহূর্তে বিদ্যমান নেই। সংবিধান সংশোধন বা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সরকার বা অন্য কোনো নির্বাহী আদেশ দ্বারা রাষ্ট্রপতিকে বহিষ্কার করার কোনো সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭২-এর সংবিধান এখনো কার্যকর থাকায় যেকোনো প্রকার বহিষ্কারের চেষ্টা সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে।পাবনা জেলা প্রতিনিধি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে দেশের স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে সাংবিধানিক পদের সুরক্ষা অপরিহার্য। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য সরকার গঠন বা বর্তমান প্রেক্ষাপটে, মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সরানো বর্তমান আইনি কাঠামোতে অসম্ভব।