
চৌদ্দগ্রাম(কুমিল্লা)প্রতিনিধি:ঈমাম হোসেন শরীফ.
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভোট গণনার পর পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নে বিএনপি নেতা–কর্মীদের বাড়িতে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপির ৬০ জন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ মজুমদার।শুক্রবার সন্ধ্যায় শহীদ বীর উত্তম জিয়াউর রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১১ ফেব্রুয়ারি রাতেই উপজেলার আলকরা, গুণবতী, কনকাপৈত, জগন্নাথদিঘি ও চিওড়া ইউনিয়নে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে নেয়। এ সময় তারা বিএনপির এজেন্ট ও নেতা–কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। ওই রাতে বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মারা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং নির্বাচনের দিন উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের সব ভোটকেন্দ্র জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রশাসনের সহযোগিতায় দখল করে নেয়। নির্বাচন শুরুর আগেই বিএনপির সব এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় জামায়াত দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রগুলো দখল করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সিল মারে। এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে তিনি ফল স্থগিত ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান।হারুন অর রশিদ মজুমদার আরও বলেন, ভোট গণনা শেষে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পৌরসভা, শুভপুর, বাতিসা, কনকাপৈত, চিওড়া, জগন্নাথদিঘি, গুণবতী ও আলকরা ইউনিয়নে বিএনপি নেতা–কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এতে ৬০ জনের বেশি নেতা–কর্মী আহত হন। আহতরা চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হামলার ঘটনায় একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এ ছাড়া আলকরা, গুণবতী ও জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নে অসংখ্য বিএনপি নেতা–কর্মীকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বাড়িছাড়া করেছে বলেও দাবি করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভা বিএনপির সভাপতি জিএম তাহের পলাশী বলেন, ভোট গণনা শেষে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মফিজুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি দিদার এবং পৌর মহিলা দলের নেত্রী তাসলিমার বাড়িতেও হামলা করা হয়। পৌর মহিলা দলের নেত্রী শিখা, শান্ত ও পুতুলকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। পৌর বিএনপির নেতা এনামের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও তোলেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী রাকিবুল হাসান মহব্বত, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীসহ অন্যান্য।